Thursday, February 16, 2017

"!!দ্বাদশ পদাবলী!!"

**কৃষ্ণ কথা**
!!*হরে কৃষ্ণ*!!
"!!দ্বাদশ পদাবলী!!"
আমরা যারা সনাতন বা বৈদিক ধর্মাবলম্বী, তাদের কাছে শ্রীমদ্ভগবদ গীতা একখানি পবিত্র গ্রন্থ। এ শুধু গ্রন্থ বললে ভুল হবে, গীতা মানব জীবনের দিকনির্দেশনা প্রদান সহ সকল শাস্ত্রের আধার। তাইতো "শ্রীমদ্ভগবদ গীতা" হলো, "The code of human's life." এই পূণ্য গ্রন্থ পাঠের পুর্বে
আমরা একটি শ্লোক পাঠ করে থাকি। "ওঁ নমো
ভগবতে বাসুদেবায়!!"
এই শ্লোকে আছে বারটি বর্ণ।যা হলো,
ওঁ, ন, মো, ভ, গ, ব, তে, বা, সু, দে, বা, য়।
এই বারটি বর্ণ নিয়ে
রচিত হয়েছে বারটি পদাবলী। যা সবার জানার জন্য পোস্ট করলাম। আশাকরি সবার ভাল লাগবে।
ওঁ-
বীজেতে ব্রহ্মা বিষ্ণু শিবকে বোঝায়,
রাগদ্বেষাদি যার কৃপায় জয় করা যায়!
রোগে শোকে কাল নিদ্রায় মোরা হই মগন,
দয়াকরে রক্ষা করো হে মধুসূদন!!
ন-
নমি তব শ্রীপদেতে নিলাম শ্মরণ,
অনাশ্রয়ে অনাথের রক্ষো হে মধুসূদন!!
মো-
মোহ মায়ায় স্ত্রীসন্তানে সদা নিমগন,
তৃষ্ণা নিবারণ করো হে মধুসূদন!!
ভ-
ভক্তিহীন শোকে তাপে রত অনুক্ষণ,
পাপ হতে রক্ষা করো হে মধুসূদন!!
গ-
গতাগতি বারংবার করো নিবারণ,
জন্মমৃত্যু রহিত করো হে মধুসূদন!!
ব-
বহুগামীর বহু যোনী করেছি ভ্রমণ,
গর্ভদুঃখ হতে রক্ষো হে মধুসূদন!!
তে-
তেমনি ভোগ করতে হয় কর্ম যেমন,
সংসার মায়ায় রক্ষো হে মধুসুদণ!!
বা-
বাক্য দিয়েছিলাম তোমা করিব সাধন,
মায়ামোহে তা' ভুলিলাম হে মধুসুদণ!!
সু-
সুকর্ম করিনি আমি আমার এ জীবন,
দুঃখার্ণবে রক্ষা করো হে মধুসুদণ!!
দে-
দেহান্তর ছিলাম কতো নাই তা স্মরণ,
জন্মমৃত্যু বন্ধ করো হে মধুসুদণ!!
বা-
বাসুদেবে যেনো আমি স্মরি চিরন্তন,
জরাব্যাধি মৃত্যু হতে রক্ষো মধুসুদণ!!
য়-
যথা যথা জন্ম আমি করি হে ধারণ,
তব পদে অচলাবস্থা ভক্তি দাও মধুসুদণ!!
হে পরমকরুনাময়, সচ্চিদানন্দঘন, গোলোকপতি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, তোমার সৃষ্টির সকল কিছুই তুমি রক্ষা করো প্রভু। সবার মঙ্গল, কল্যাণ, সুন্দর আর শান্তির বিধান নিশ্চিত করো প্রভু।(দেবেন্দ্র)
!!হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে!!
!!জয় শ্রীমধুসুদণ!!জয় রাধে!!

নাম অপরাধ

**কৃষ্ণ কথা**
!!*হরে কৃষ্ণ*!!
"!ঈশ্বরে সেবানামাপরাধাদি!"
*******
আমরা যারা ঈশ্বরের প্রার্থনা বা উপাসনা করি, তারা অনেকেই জানিনা
ঈশ্বরের নামকীর্ত্তন বা পুজার্চনা করতে গেলে
অনেক অপরাধ করে ফেলি। যা আমরা অঞ্জাতে
করে থাকি। এই অপরাধ গুলো নামাপরাধ এবং
সেবা অপরাধ।
প্রথমে দেখি নাম অপরাধ কি কি। দশ
প্রকার নাম অপরাধ আছে। যা হলো,
***
01) মহতের নিন্দা,
02) বিষ্ণু হতে শিবের গুননামাদিকে ভিন্ন
করে মানা,
03) গুরুতে অবঞ্জা,
04) বেদ এবং বেদানুগত শাস্ত্রের নিন্দা,
05) হরিনাম মাহাত্মে অর্থবাদ অর্থাৎ স্তুতিবাদ কল্পনা,
06) প্রকারান্তরে নাম মাহাত্মের অল্পতা
কল্পনা করা,
07) নাম বলে পাপে প্রবৃত্তি,
08) অন্য শুভ ক্রিয়ার সাথে নামের তুলনা করা,
09) শ্রদ্ধাবিহীন, বিমুখ এবং শ্রবণে রুচিরহিত
ব্যাক্তিকে হরিনামের উপদেশ এবং
10) নামমাহাত্ম শ্রবণ করেও নামে অরুচি।
এ তো গেলো নামাপরাধ।

সেবা অপরাধ

 এবার দেখা যাক সেবা
অপরাধ গুলো কি কি। বত্রিশটি সেবা অপরাধ আছে। যা হলো,
***
01) যানে আরোহন এবং চরণে পাদুকা দিয়ে ভগবদ্ গৃহে গমন,
02) ভগবদ্ যাত্রা উৎসবাদির অসেবন,
03) শ্রীকৃষ্ণের অগ্রে প্রণাম না করা,
04) উচ্ছিষ্ট যুক্ত দেহে এবং অশৌচে ভগবৎ
প্রণামাদি,
05) এক হস্ত দ্বারা প্রণাম,
06) তদগ্রে অন্য দেবতা অর্থাৎ সূর্য্যাদির
প্রদক্ষিণ,
07) তদগ্রে পাদদেশে প্রসারণ,
08) তদগ্রে পর্য্যঙ্ক-বন্ধন, অর্থাৎ বাহুযুগল দ্বারা জানুদ্বয় বেষ্টন করতঃ উপবেশন,
09) তদগ্রে শয়ন,
10) তদগ্রে ভোজন,
11) মিথ্যা ভাষণ,
12) উচ্চ ভাষণ,
13) পরস্পর কথোপকথন,
14) রোদন,
15) কলহ,
16) নিগ্রহ,
17) অনুগ্রহ,
18) সাধারণ মনুষ্যের প্রতি নিষ্ঠুর বাক্য প্রয়োগ,
19) ভগবৎ সেবা কার্য্য সময়ে কম্বল ধারণ,
20) তদগ্রে পরনিন্দা,
21) পরের প্রশংসা,
22) অশ্লীল ভাষণ,
23) অধোবায়ু-পরিত্যাগ,
24) সামর্থ্য থাকতে গৌণোপচার (অর্থ ব্যয়
করতে সামর্থ্য থাকলেও বিত্তশাঠ্য করে)
ভগবদুৎসবাদি নির্ব্বাহ করা,
25) অনিবেদিত ভক্ষণ,
26) যে কালে যে যে ফলাদি ও শস্যাদি উৎপন্ন হয়, সেই সেই দ্রব্যাদি ভগবানকে অর্পণ না করা,
27) আনীত দ্রব্যের অগ্রভাগ অন্যকে প্রদান
করতঃ অবশিষ্ট অংশ ভগবদর্থে প্রদান করা,
28) শ্রীমূর্ত্তিকে পশ্চাৎ করে উপবেশন,
29) অন্যকে প্রণাম করা,
30) গুরুর সমীপে কোনো স্তবাদি না করে মৌনভাবে
অবস্থিতি,
31) নিজের প্রসংশা করা এবং
32) দেবতায় নিন্দা করা।
***

সেবাপরাধ

এ সব অপরাধ সমুহ শ্রী শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত
হতে সংগৃহীত। এ ছাড়া আরো চল্লিশটি সেবাপরাধ আছে বরাহ পুরাণে। সেগুলি হলোঃ
***
01) রাজান্নভক্ষন,
02) অন্ধকার গৃহে শ্রীমূর্ত্তি-স্পর্শ,
03) বিধিব্যতিত উপাসনা,
04) বিনা বাদ্যে শ্রীমন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন,
05) কুক্কুর দৃষ্ট ভক্ষ্যের সংগ্রহ,
06) পূজাকালে মৌনতা ভঙ্গ,
07) পূজা করতে করতে মল ত্যাগার্থ গমন,
08) গন্ধ-মাল্যাদি না দিয়ে অগ্রে ধূপ প্রদান,
09) অবিহিত পুষ্প দ্বারা পূজা,
10) দন্তধাবন না করে পূজা,
11) স্ত্রীসম্ভোগ করতঃ পূজা ও শ্রীমন্দিরে প্রবেশ,
12) রজস্বলা স্ত্রীকে স্পর্শ করতঃ ভগবদ্ কর্ম,
13) দীপ স্পর্শ করে পূজা,
14) শব স্পর্শ করে পূজা,
15) রক্ত-বর্ণ, নীলবর্ণ, অধৌত, পরকীয় এবং
অপবিত্র বস্ত্র পরিধান করে পূজা,
16) মৃত দর্শন করে পূজা,
17) ক্রোধান্বিত হয়ে পূজা,
18) শ্মশান থেকে এসে পূজা,
19) কুসুম্ভ এবং পিন্যাক ভক্ষণ করে পূজা,
20) তৈলাভ্যক্ত শরীর হয়ে পূজা,
21) অজীর্ণ অবস্থায় হরির স্পর্শ এবং কর্ম্ম করা,
22) ভগবচ্ছাস্ত্রের অনাদর করে, অন্য শাস্ত্র প্রবর্তন,
23) ভগবদগ্রে তাম্বুল চর্ব্বন,
24) এরন্ডুপত্রস্থ কুসুম দ্বারা ভগবদর্চ্চন,
25) আসুরকালে ভগবৎ পূজা,
26) পীঠে এবং ভুমিতে উপবিষ্ট হয়ে ভগবৎ পূজা,
27) স্নানকালে বামহস্থ দ্বারা শ্রীমূর্তি স্পর্শ,
28) পর্য্যুষিত এবং যাচিত পুষ্প দ্বারা ভগবদর্চ্চন,
29) পূজাকালে থুৎকার নিক্ষেপ,
30) পূজাবিষয়ে গর্ব করা, অর্থাৎ আমার ন্যায় কেউ পূজা করতে পারে না ইত্যাদি মনন করা,
31) তির্য্যক্ পুন্ড্র ধারণ,
32) অপ্রক্ষালিত চরণে শ্রীমন্দিরে প্রবেশ,
33) অবৈষ্ণব পক্কান্ন ভগবানকে অর্পণ করা,
34) অবৈষ্ণব সম্মুখে বিষ্ণু পূজা,
35) গনেশের পূজা না করে ভগবান পূজা,
36) কাপালী অর্থাৎ স্বনামখ্যাত নীচজাতী
বিশেষকে দর্শন করে বিষ্ণুপূজা করা,
37) নখস্পৃষ্ট জল দ্বারা শ্রীমূর্ত্তির স্নাপন,
38) ঘর্ম্ম-লিপ্তাঙ্গ হয়ে শ্রীমূর্ত্তির পূজা করা,
39) নির্ম্মাল্য লঙ্ঘন এবং
40) ভগবানের নামে শপথাদি করা।
***
এই হলো বরাহ পুরাণের মতে চল্লিশটি সেবাপরাধ। আশাকরি, আমরা যারা না জেনে এগুলির কোনোটা না কোনোটা করে থাকি, তারা সাবধান হওয়ার চেষ্টা করবো।
পরমকরুনাময় সচ্চিদানন্দ ভগবান নিশ্চয়ই আমাদের মঙ্গল করবেন। পরমেশ্বর ভগবান সবার মঙ্গল করুণ।(দেবেন্দ্র)
!!হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে!!
!!জয় শ্রীভগবান!! জয় রাধে!!
!!জয় শ্রীমন্ মহাপ্রভুর জয়!

মানব জীবনের কল্যানের উদ্দেশ্যে ভীষ্মদেবের উপদেশ :

মানব জীবনের কল্যানের উদ্দেশ্যে
ভীষ্মদেবের উপদেশ সমূহ:
১। ক্রোধ না করা।
২। মিথ্যা কথা না বলা।
৩। সম্পদ সমভাবে বন্টন করা।
৪। ক্ষমা করা।
৫। কেবল বিবাহিত পত্নীর দ্বারাই সন্তান উৎপাদন করা।
৬। দেহে ও মনে শুদ্ধ হওয়া।
৭। কারো প্রতি শত্রুভাবাপন্ন না হওয়া।
৮। সরল হওয়া।
৯। আশ্রিত অথবা অধীনস্তদের পালন করা।
১০। ক্রোধ থেকে মুক্ত হবার জন্য ক্ষমা করতে শিখতে হবে।
১২। অবৈধ বাসনা সমূহ থেকে মুক্ত হবার জন্য ভবিষৎ পরিকল্পনা করার প্রবণতা ত্যাগ করতে হবে।
১৩। আধ্যাত্মিক অনুশীলনের দ্বারা ঘুমকে জয় করা যায়।
১৪। সহনশীলতার দ্বারা কেউ বাসনাসমূহ এবং বিদ্বেষকে জয় করা যায়।
১৫। নিয়ন্ত্রিত আহারের দ্বারা কেউ বিভিন্ন রোগের উপদ্রব পরিহার করতে পারবে।
১৬। আত্ম-সংযমের দ্বারা মিথ্যা আশা থেকে মুক্ত হওয়া যায়।
১৭। অপ্রত্যাশিত সঙ্গ পরিহার করে অর্থ বাচানো যায়।
১৮। যোগ অনুশীলনের দ্বারা ক্ষুদা ও তৃষ্ণা জয় করা যায়।
১৯। জগতের অনিত্যতার সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণেরফলে বিষয়-তৃষ্ণা নিবারন করা যায়।
২০। ভোরে শয্যা ত্যাগ করার দ্বারা বিহ্বলতা জয় করা যায়।
২১। তথ্য নির্ধারনের মাধ্যমে মিথ্যা তর্ক জয় করা যায়।
২২। গাম্ভীর্য এবং মৌনতার দ্বারা বাচালতা পরিহার করা যায়।
৩৩। শৌর্যের দ্বারা ভয় পরিহার করা যায়।
২৪। আত্ম অনুশীলনের ফলে যথার্থ জ্ঞান অর্জন করা যায়।
হরে কৃষ্ণ। জয় সনাতন।সকল বৈষ্ণবের চরনে শতকোটি প্রনাম।লেখার মাধ্যমে ভুলহলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন!!

অর্চিদেবীর বৈকূণ্ঠলোকে গমন


💚শ্রীমদ্ভাগবতে উল্লেখ আছে পৃথু মহারাজের পত্নী অর্চি দেবী যখন তার স্বামীর চিতায় সহমরণ করলেন, তখন মর্ত্যলোকবাসী ও দেবপত্নীরা দেখলেন — কিভাবে সতী অৰ্চি তার অচিন্ত্য পুণ্যকর্মের প্রভাবে ,তাঁর পতির অনুগমন করে উধৰ্ব্বগামিনী হচ্ছেন ।
💚অর্থাৎ যে বিমান পৃথু মহারাজকে নিয়ে যাচ্ছিল এবং যে বিমান মহারাণী অৰ্চিকে নিয়ে যাচ্ছিল , সেই দুটি বিমােনই স্বৰ্গলোকের দেবীদের দৃষ্টিপথ অতিক্ৰম করেছিল । পৃথু মহারাজ ও তার পত্নী যে এত উচ্চপদ প্ৰাপ্ত হয়েছিলেন , তা দেখে তারা বিস্ময়ান্বিত হয়েছিলেন । যদিও তাঁরা ছিলেন স্বৰ্গলোকবাসী দেবতাদের পত্নী এবং পৃথু মহারাজ ছিলেন নিকৃষ্টতর পৃথিবীর অধিবাসী , তবুও পৃথু মহারাজ তার পত্নীসহ দেবলোক অতিক্ৰম করে বৈকুণ্ঠলোকে গমন করেছিলেন ।
💚তারপর দেবপত্নীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলেন যারা ছিলেন চন্দ্ৰ সূৰ্য , শুক্ৰ আদি ব্ৰহ্মলোক পৰ্যন্ত সমস্ত উচ্চতর লোকের অধিবাসী । ব্ৰহ্মলোকের উর্ধ্বে হচ্ছে চিদাকােশ , সেই চিদাকাশে অসংখ্য বৈকুণ্ঠলোক রয়েছে । তাই বৈকুণ্ঠলোক হচ্ছে জড় জগতের সমস্ত লোকের উর্ধ্বে এবং পৃথু মহারাজ ও তাঁর পত্নী সেই বৈকুণ্ঠলোকে গমন করছিলেন ।
💚পৃথু মহারাজ ও তাঁর পত্নী অচি যখন জড় আগুনের দ্বারা তাদের জড় দেহ ত্যাগ করেছিলেন , তৎক্ষণাৎ তারা তাদের চিন্ময় শরীর লাভ করে চিন্ময় বিমানে আরোহণ করেছিলেন , যা জড় উপাদানগুলি অতিক্ৰম করে চিদাকাশে পৌছতে পারে । যেহেতু তারা দুটি আলাদা বিমানে বাহিত হয়েছিলেন যেন তারা স্বতন্ত্ৰ ব্যক্তিরুপে চিদাকাশে পৌছাতে পারে । যেহেতু তারা দুটি আলাদা বিমানে বাহিত হয়েছিলেন তা থেকে বোঝা যায় যে , চিতাগ্নিতে দগ্ধ হওয়ার পরও তারা স্বতন্ত্ৰ ব্যক্তিরুপে পৃথক ছিলেন । অৰ্থাৎ , তারা তাদের পরিচিতি হারাননি অথবা শূন্য হয়ে যাননি যা নির্বিশেষবাদীরা কল্পনা করে ।
💚স্বৰ্গলোকের দেবীরা নিন্ম ও উৰ্ব্ব দুই দিকই দৰ্শন করতে পারেন । তারা যখন নীচের দিকে দেখেছিলেন , তখন তারা দেখেছিলেন যে , পৃথু মহারাজের দেহ দগ্ধ হচ্ছে এবং তাঁর পত্নী অৰ্চি সেই আগুনে প্ৰবেশ করছেন , এবং যখন তারা উপরের দিকে দৰ্শন করেছিলেন , তখন তারা দেখেছিলেন যে , কিভাবে দুটি বিমানে তারা বৈকুণ্ঠলোকে যাচ্ছেন । তা সম্ভব হয়েছিল কেবল তাদের ভগবানের ভক্তের প্রতি অচিন্ত কর্মের প্রভাবে । পৃথু মহারাজ ছিলেন একজন শুদ্ধ ভক্ত , এবং তার পত্নী অৰ্চি কেবল তাঁর পতির অনুগমন করেছিলেন । এইভাবে তারা দুজনেই ছিলেন শুদ্ধ ভক্ত এবং তার ফলে তারা অচিন্ত্য কৰ্মসাধনে সক্ষম ছিলেন ।
💚এই প্রকার বৈরাগ্য বা ত্যাগ সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় । প্রকৃতপক্ষে , সাধারণ মানুষ ভগবদ্ভক্তি গ্ৰহণ পৰ্যন্ত করতে পারে না এবং সাধারণ স্ত্ৰী সতীত্বের এই প্ৰকার ব্ৰত অবলম্বন করে সর্বতোভাবে তাদের পতির অনুগমন করতে পারে না ।
💚মহিলাদের উচ্চ শিক্ষালাভের কোন প্রয়োজন হয় না কিন্তু তাদের পতিরা যদি ভগবদ্ভক্তক্ত হন এবং তারা যদি তাদের পতির পদাঙ্ক অনুসরণ করেন , তা হলে পতি ও পত্নী উভয়েই মুক্তিলাভ করবেন এবং বৈকুণ্ঠলোকে উন্নীত হবেন । তেমনই পৃথু মহারাজ ও তাঁর পত্নীর অচিন্ত্য কর্মের প্রভাবের ফল কি তা প্ৰত্যক্ষ করেছেন সবাই।। হরেকৃষ্ণ ।।
💚💚💚💚💚💚
💚💚 সবাইকে share করুন💚💚

অর্থই অনর্থ। কেন???



Image may contain: 1 person
উত্তরঃ অর্থের স্বার্থকতা হচ্ছে অর্থকে ভগবৎসেবায় নিয়োগ করে ভগবানের কৃপা হিসাবে তার ব্যবহার করা। কিন্তু বর্তমান জগতে অর্থের অসদ্ব্যব্যবহারই নিছক নশ্বর তুচ্ছ ইন্দ্রিয়-সুখ ভোগের নিমিত্ত অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করে। ধর্মসম্পন্ন ব্যক্তি পিতা, ভ্রাতা, স্ত্রী, পুত্র, বান্ধব সবার কাছে প্রিয় হয়। কিন্তু টাকা পয়সা শূন্য হয়ে থাকলে সকল প্রীতির আত্মীয়তা বিনষ্ট হয়। ইন্দ্রিয় তর্পণের জন্য অর্থ রোজগার করলে মানুষের যে দশা হয়, তা শ্রীমদ্ভাগবতে উল্লেখ্য আছে- "চুরি, হিংসা, মিথ্যাবাক্য, দম্ভ, কাম, ক্রোধ, বিস্ময়, মত্ততা, বিভেদ, শক্রতা, অবিশ্বাস, স্ত্রীবিষয়ক বিলাসব্যসন, তাস পাশা খেলার সামগ্রী ও মাদক দ্রব্য সংগ্রহ এই পনেরো প্রকারের অনর্থ উপস্থিত হয়।" (ভাঃ ১২/২৩/১৮-১৯) আবার অনেক মূর্খ ব্যক্তি বহু কষ্টে অর্থ সঞ্চিত রেখেও ভোগ করতে পারে না।।শাস্ত্রে বলা হয়েছে, পিতা, ভ্রাতা, স্ত্রী, পুত্র প্রভৃতি অতি প্রিয় ব্যক্তিরা অর্থশূন্য ব্যক্তিকে অবজ্ঞা ও হেয় করে থাকে। শ্রীমদদ্ভাগবতে (১১/২৩/২১) উল্লেখ্য আছে-
অর্থেনাল্পীয়স্য হ্যেতে সংরব্ধা দীপ্তমন্যবঃ।
ত্যজন্ত্যাশু স্পৃধো ঘ্নতি সহসোৎসৃজ্য সৌহৃদম্।।
অর্থাৎঃ "তারা সামান্য অর্থের জন্য ক্ষুভিত ও ক্রুদ্ধ হয়ে শীঘ্রই তাদের সমন্ধ ছিন্ন করে এবং স্পর্ধাযুক্ত চিত্তে বন্ধুত্ব-আত্মীয়তা পরিত্যাগ করে ভাইয়ে ভাইয়ে বিনাশমূলক কাজে এগিয়ে আসে।"
এটাই ভগবৎ-সেবাবিমূখ ইন্দ্রিয় তর্পনকারীদের অর্থের অনর্থকতা।
#জয়_শ্রীকৃষ্ণ

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বিষয়বস্তু

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বিষয়বস্তু হল ঈশ্বর, জীব, প্রকৃতি, কর্ম ও কাল। এই কাল হল সময় যা প্রতিটি জীবনের শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ।
যে সময়কে সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করতে পেরেছে, সময়ই তাকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।
💟চব্বিশ ঘন্টার একটা দিন সবার জন্যই। শুধু সে সময়টাকে কে কিভাবে ব্যবহার করছে তার উপরই নির্ভর করবে ইতিহাসের কোন জায়গায় আপনি থাকবেন।
💟আপনাকে ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা
করতে হবে না, বরং ভবিষ্যৎই আপনার
জন্য অপেক্ষা করবে।
💟পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন,"অহমেবাক্ষয় কালঃ" ।
অর্থাৎ "হে অর্জুন আমিই সবার আয়ু ক্ষয়কারী মহাকাল"।
💟তাই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরন গ্রহন করে এখনই সময় সময়কে কাজে লাগানোর।
💟জাগতিক প্রবাদ আছে,
"সময়ের এক ফোঁড়,
অসময়ের দশ ফোঁড়"।
💟লালন গেয়েছেন,
"সময় গেলে সাধন হবে না"।।হরে কৃষ্ণ।।

শ্রীমন্ মহাপ্রভুর শিক্ষাষ্টক

**কৃষ্ণ কথা**
*!!হরে কৃষ্ণ!!*"!
শ্রীমন্ মহাপ্রভুর শিক্ষাষ্টক!"
বন্ধুদের জন্য আজ মহাপ্রভুর শিক্ষাষ্টকের বাংলা অনুবাদ সংক্ষেপে পোস্ট করলাম। আশাকরি ভাললাগবে।
"!হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে!"
"!ভজ শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ!"
**শিক্ষাষ্টকঃ
01) নামসংকীর্তনের দ্বারা সকল অনর্থের বিনাশ হয়। নামসংকীর্তনে সকল শুভ ও মঙ্গলের উদয় ঘটে।নামামৃত পানে, শ্রবণে হৃদয়ে শ্রীকৃষ্ণ
প্রেমরসের উল্লাস হয়।
02) শ্রীহরির অনেক নাম। যার যে রকম ভাব ও বাঞ্ছা, সেরকম ভাবের অনেক নামের প্রকাশ
করেছেন শ্রীকৃষ্ণ। প্রত্যেক নামেই সর্বশক্তি প্রয়োগ
করেছেন। নামে কালাকাল নিয়ম নেই, শুচি অশুচি বিচার নেই। যখন ইচ্ছা যেভাবে ইচ্ছা,
সেভাবেই নাম করা যায়।
03) তৃণ অপেক্ষা নিচু হয়ে, বৃক্ষের ন্যায় সহিষ্ণু হয়ে, অপরকে সম্মান দিয়ে, নিজে মান না চেয়ে, যে ব্যক্তি কৃষ্ণনাম করেন। সে ই কীর্ত্তনে সমগ্র ফল
লাভ করেন।
04) প্রভু, হরিহে- তোমার কাছে কিছুই চাইনা। ধন,
জন, যুবতী বা কাব্যামৃত আস্বাদন, কিছুরই প্রতি
কামনা নেই। কেবল শুদ্ধ ভক্তি চাই। হে কৃষ্ণ,
কৃপাকরে শুধু তাই দাও।
05) শ্রীকৃষ্ণপদে অনুরাগই জীবের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। ঐ
সম্পদ যার নেই, সে প্রকৃতই দরিদ্র। আমার এই দরিদ্র জীবন ব্যর্থ কৃষ্ণ প্রেমধন বিনা। হে কৃষ্ণ, তুমি আমাকে কীর্ত্তনের লালসা নয়, প্রেম দান করো। যাতে তোমার নাম গ্রহনে, নয়ন ধারা বয়, কন্ঠ গদগদ হয়,পুলকে অঙ্গ পরিপ্লাবিত হয়।
06) হে কৃষ্ণ, তোমার চরণ আশায় আমার দিবস
নাহি যায়। প্রতি মুহুর্ত যেন যুগের মতো। বর্ষার
মেঘের মতো আমার নয়নাশ্রু ঝরে। কবে হবে আমার এমন প্রেম ভাব।
07) গোবিন্দ বিরহে আমার সকল কিছুই অসার হলো। ত্রিভুবন শুন্য হয়ে গেলো।
08) আমি শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণ সেবিকা দাসী।
তিনি আমাকে আলিঙ্গন করে আত্মসাৎ করুণ,
কিংবা দর্শন না দিয়ে আমার দেহপ্রাণ তাপদগ্ধই করুণ। কিংবা
যেখানে সেখানে বিচরণ করে, যার তার সাথে
বিহারে রত থাকুন, তাতে আমার কিছুই যায় আসে
না। সেসব কথা আমি মনের কোনেও স্থান দেইনা।
********
এই শিক্ষাষ্টক স্মরণ, মনন, চিন্তন ও অনুরণনে মনে আসে ভগবদ্ভক্তি আর বিশুদ্ধ প্রেমের অমিয় শান্তির
আনন্দানুভুতি। তাই সবার কাছে নিবেদন, আমরা যেন এই শিক্ষাকে ভুলে না যাই, আর অহর্নিশিদিবা সকল কাজের মাঝে স্মরণ রাখার প্রয়াস করি। আর তার ব্যবহারীক প্রয়োগ আমাদের বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করি। নিশ্চয়ই পরমকরুনাময় সচ্চিদানন্দঘন ভগবান
শ্রীকৃষ্ণ আমাদের প্রকৃত শান্তির বাতাবরণে
উন্নীত করবেন।(দেবেন্দ্র)
"!হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে!!"
!!জয় শ্রীমন্ মহাপ্রভুর জয়!!
!!জয় শ্রীগোবিন্দ!! জয় রাধে!!

সনাতন শাস্ত্রে কি মৃত দেহ অগ্নিতে আহুতি দেয়ার বিধান আছে???

Image may contain: text
উত্তর:--- মানব জীবনে আমাদের চলার প্রত্যেক পদে পদে হাজারো প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। নিজেরা এসব প্রশ্নের উত্তর খুজতে খুজতে প্রায় সমগ্র মানব জীবনই বৃথা চলে যায়। কিন্তু অনেক প্রশ্নের উত্তরই পায়না। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে কেনো আমরা বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর পায়না??
বাংলা ভাষায় একটা প্রবাদ আছে "কাদঁলে সন্তান দুধ পায়"
আমাদেরকেও প্রশ্নের উত্তর খোজার জন্য নানা উৎস উৎঘাটন করতে হবে। নিজেদের শ্রম করতে হবে #কেনো মহাবিশ্বে এরকম ঘটনা ঘটেছিল, কেনো এরকম ঘটছে আর ভবিষ্যতেই বা কিরকম ঘটতে পারে?
.
আজকে আপনাদের একটি সুপরিচিত বিষয় মৃতদেহ দাহ করার শাস্ত্রীয় প্রমাণ উল্লেখ করবো।
.
পবিত্র বেদ যা সকল মানুষের সংবিধান কেননা পবিত্র বেদ সকলকেই বলে "মনুর্ভব " মানে মানুষ হও।
.
পবিত্র বেদের একটি মন্ত্রে মৃতদেহকে দাহ করার বিধান দেয়া হয়েছে।
.
মন্ত্রটি নিম্নরুপ---
.
পবিত্র যজুর্বেদ ৪০/১৫
.
বায়ুরনিলমমৃতমথেধং ভষ্মান্ত শরীরম্।
ওঁম ক্রুতো স্মর ক্লিবে স্মর কৃত স্মর।।
.
পদার্থ→→-- (ক্রতো)হে কর্ম্মকর্তা জীব, (ওঁম) পরমাত্মার নাম, (ক্লিবে) সামর্থ্যের জন্য, (স্মর) স্বরণ কর, (কৃতম)কৃত কর্ম্মকে, (স্মর)স্বরণ কর, (বায়ুঃ) আধ্যাত্মিক প্রাণ, (অনিলম্) আধিদৈবিক প্রান, (অমৃতম)পরমাত্মাকে প্রাপ্ত হও,(অপ) তৎপর, (ইদং শরীরম্)- এই ভৌতিক শরীর, (ভস্মান্তম) ভস্মে শেষ হয়।
.
বঙ্গানুবাদ- হে কর্মশীল জীব! শরীর ত্যাগের সময় পরমাত্মার নাম ওঙ্কার স্বরণ কর, আধ্যাত্মিক সামর্থ্য প্রাপ্তির জন্য স্বরণ কর।কৃতকর্মকে স্মরণ কর। প্রথম আধ্যাত্মিক প্রান, আধিদৈবিক প্রান পুনরায় সেই প্রানস্বরুপ পরমাত্মাকে প্রাপ্ত হও। তৎপর এই ভৌতিক শরীর ভষ্মে পরিনত হউক।
.
ভাবার্থ -- অন্তোষ্টি সংস্কারই শেষ সংস্কার, ইহার পর শরীরের আর কোন সংস্কারই বাকী থাকেনা। ইহারই নাম নরমেধ, পুরুষমেধ, নরযাগ আর পুরুষ যাগ। শ্মশান ভূমিতে জ্বলন্ত চিতায় সমিধা সুগন্ধি, রোগনাশক আর বুদ্ধিবর্দ্ধক ঔষধি এবং ঘৃত আহুতি দ্বারা মৃত শরীরকে ভষ্মিভূত করায় অন্তোষ্টি সংস্কার, জীব তাহার নিজের কর্মের ফল নিজেই ভোগ করে, বংশধরদের কোন কার্য্যই তাহাকে সাহায্য করিতে পারেনা।
.
মৃতদেহ দাহ করার বিধান সনাতন শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।
.
Thanks All