Monday, March 6, 2017

গোমাতা/গরু হত্যা

<3
Image may contain: 3 people<3 চাঁদকাজীকে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেছিলেন, একটি গোহত্যা করলে সেই গরুর শরীর যত লোম আছে তত বছর ধরে নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে ।।
<3 এই ভয়ংকর কথাটি মহাপ্রভু কি নতুন করে বলেছেন। না কি এই কথা কোনও শাস্ত্রে আছে ?
<3 শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সর্বদাই শাস্ত্রসম্মত কথা বলেছেন। চাঁদ কাজীকে যে কথা তিনি বলেছিলেন সেটি তার নতুন কোনও কথা ছিল না। এই কথাটি বহু পূর্বকালে শ্রীব্রহ্মা দেবরাজ ইন্দ্রকে বলেছিলেন। “যে ব্যক্তি গোমাংস ভক্ষণ এবং যে ব্যক্তি ঘাতককে গোহত্যার অনুমতি দেয়, তাদের সকলকেই সেই নিহত গরুর লোম পরিমিত বৎসরকাল নরকে নিমগ্ন থাকতে হয়।।
<3 ব্রাহ্মণের যজ্ঞে বিঘ্ন করলে যে দোষ ও যে পাপ জন্মায়, গরু বিক্রি ও গরু চুরি করলে সেই দোষ ও সেই পাপ হয়ে থাক।” কোনও প্রাচীন যুগে শ্রীব্রহ্মা যে কথা ইন্দ্রকেবলেছিলেন, সেই কথা স্বর্গরাজ ইন্দ্র রাজা দশরথকে বলেন, দশরথ তার পুত্র শ্রীরাম চন্দ্রকে ,রামচন্দ্রপ্রিয়ভ্রাতা লক্ষ্মণকে, এবং
<3 লক্ষ্মণ বনবাসী ঋষিদের কাছে এই গোহত্যা জনিত পরিণামের কথা কীর্তন করেন। ঋষিরা দেশের রাজাদের কাছে বলেন। এই ভাবে ত্রেতাযুগ হয়ে দ্বাপরযুগে এই কথা গুলি শ্রীযুধিষ্ঠির মহারাজকে গঙ্গাপুত্র শ্রীভীষ্মদেব বলেছিলেন। ত্রিকালজ্ঞ মহর্ষি শ্রীব্যাসদেব মহাভারত রচনা কালে অনুশাসন পূর্বে ৭৪ অধ্যায়ে এ সমস্ত কথা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।।
<3 কলিযুগে নদীয়ার শাসনকর্তা চাঁকাজীর মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভু সবাইকে শিক্ষা দিচ্ছেন গোহত্যার পরিণাম কত ভয়ংকর। সেই কথা মহাপ্রভুর প্রিয় পার্ষদ শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী শ্রীচৈতন্য চরিতামৃতে উল্লেখ করেছেন মাত্র।।
<3 এতএব মহাপ্রভু নতুন কথা কিংবা নতুন ধর্ম কখনই রচনা করছেন না। যা শাস্ত্রে বহু পূর্বে উল্লিখিত রয়েছে সেই সবই প্রকাশিত করা হয়েছে। মহাপণ্ডিত মহাপ্রভুর কথার প্রামাণিকতা আছে বলেই চাঁদকাজীর মতো নাম
করা ব্যাক্তিও তাকে সমর্থন করেছিলেন ।।
বিদ্র : ভুল এুটি কৃপা করে ক্ষমার চোখে দেখবেন <3
শেয়ার করতে ভুলবেন না 

Monday, February 27, 2017

শ্রীমান গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর শুভ আবির্ভাব তিথি - 1423

শ্রী শ্রী গুরু গৌরাঙ্গৌ জয়তঃ

গৌর পূণির্মা
মহোৎসব ২০১৭ খ্রিঃ
২৯ গোবিন্দ ৫৩১ গৌরাব্দ,২৮ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ,১২ মার্চ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ,
রবিবার,
..
যদি গৌর না হইত,তবে কি হইত,
কেমনে ধরিতাম দে|
রাধার মহিমা প্রেম রসসীমা,
জগতে জানাত কে?
গৌরাঙ্গ প্রণাম মন্ত্র
নমো মহাবদান্যায় কৃষ্ণপ্রেম প্রদায়তে|
কৃষ্ণায় কৃষ্ণচৈতন্য নাম্নে গৌরত্বিষে নমঃ ||
ব্রজেন্দ্র নন্দন যেই,শচীসূত হইল সেই,
বলরাম হইল নিতাই||
জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাধি গৌর ভক্তবৃন্দ|

Thursday, February 16, 2017

"!!দ্বাদশ পদাবলী!!"

**কৃষ্ণ কথা**
!!*হরে কৃষ্ণ*!!
"!!দ্বাদশ পদাবলী!!"
আমরা যারা সনাতন বা বৈদিক ধর্মাবলম্বী, তাদের কাছে শ্রীমদ্ভগবদ গীতা একখানি পবিত্র গ্রন্থ। এ শুধু গ্রন্থ বললে ভুল হবে, গীতা মানব জীবনের দিকনির্দেশনা প্রদান সহ সকল শাস্ত্রের আধার। তাইতো "শ্রীমদ্ভগবদ গীতা" হলো, "The code of human's life." এই পূণ্য গ্রন্থ পাঠের পুর্বে
আমরা একটি শ্লোক পাঠ করে থাকি। "ওঁ নমো
ভগবতে বাসুদেবায়!!"
এই শ্লোকে আছে বারটি বর্ণ।যা হলো,
ওঁ, ন, মো, ভ, গ, ব, তে, বা, সু, দে, বা, য়।
এই বারটি বর্ণ নিয়ে
রচিত হয়েছে বারটি পদাবলী। যা সবার জানার জন্য পোস্ট করলাম। আশাকরি সবার ভাল লাগবে।
ওঁ-
বীজেতে ব্রহ্মা বিষ্ণু শিবকে বোঝায়,
রাগদ্বেষাদি যার কৃপায় জয় করা যায়!
রোগে শোকে কাল নিদ্রায় মোরা হই মগন,
দয়াকরে রক্ষা করো হে মধুসূদন!!
ন-
নমি তব শ্রীপদেতে নিলাম শ্মরণ,
অনাশ্রয়ে অনাথের রক্ষো হে মধুসূদন!!
মো-
মোহ মায়ায় স্ত্রীসন্তানে সদা নিমগন,
তৃষ্ণা নিবারণ করো হে মধুসূদন!!
ভ-
ভক্তিহীন শোকে তাপে রত অনুক্ষণ,
পাপ হতে রক্ষা করো হে মধুসূদন!!
গ-
গতাগতি বারংবার করো নিবারণ,
জন্মমৃত্যু রহিত করো হে মধুসূদন!!
ব-
বহুগামীর বহু যোনী করেছি ভ্রমণ,
গর্ভদুঃখ হতে রক্ষো হে মধুসূদন!!
তে-
তেমনি ভোগ করতে হয় কর্ম যেমন,
সংসার মায়ায় রক্ষো হে মধুসুদণ!!
বা-
বাক্য দিয়েছিলাম তোমা করিব সাধন,
মায়ামোহে তা' ভুলিলাম হে মধুসুদণ!!
সু-
সুকর্ম করিনি আমি আমার এ জীবন,
দুঃখার্ণবে রক্ষা করো হে মধুসুদণ!!
দে-
দেহান্তর ছিলাম কতো নাই তা স্মরণ,
জন্মমৃত্যু বন্ধ করো হে মধুসুদণ!!
বা-
বাসুদেবে যেনো আমি স্মরি চিরন্তন,
জরাব্যাধি মৃত্যু হতে রক্ষো মধুসুদণ!!
য়-
যথা যথা জন্ম আমি করি হে ধারণ,
তব পদে অচলাবস্থা ভক্তি দাও মধুসুদণ!!
হে পরমকরুনাময়, সচ্চিদানন্দঘন, গোলোকপতি ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, তোমার সৃষ্টির সকল কিছুই তুমি রক্ষা করো প্রভু। সবার মঙ্গল, কল্যাণ, সুন্দর আর শান্তির বিধান নিশ্চিত করো প্রভু।(দেবেন্দ্র)
!!হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে!!
!!জয় শ্রীমধুসুদণ!!জয় রাধে!!

নাম অপরাধ

**কৃষ্ণ কথা**
!!*হরে কৃষ্ণ*!!
"!ঈশ্বরে সেবানামাপরাধাদি!"
*******
আমরা যারা ঈশ্বরের প্রার্থনা বা উপাসনা করি, তারা অনেকেই জানিনা
ঈশ্বরের নামকীর্ত্তন বা পুজার্চনা করতে গেলে
অনেক অপরাধ করে ফেলি। যা আমরা অঞ্জাতে
করে থাকি। এই অপরাধ গুলো নামাপরাধ এবং
সেবা অপরাধ।
প্রথমে দেখি নাম অপরাধ কি কি। দশ
প্রকার নাম অপরাধ আছে। যা হলো,
***
01) মহতের নিন্দা,
02) বিষ্ণু হতে শিবের গুননামাদিকে ভিন্ন
করে মানা,
03) গুরুতে অবঞ্জা,
04) বেদ এবং বেদানুগত শাস্ত্রের নিন্দা,
05) হরিনাম মাহাত্মে অর্থবাদ অর্থাৎ স্তুতিবাদ কল্পনা,
06) প্রকারান্তরে নাম মাহাত্মের অল্পতা
কল্পনা করা,
07) নাম বলে পাপে প্রবৃত্তি,
08) অন্য শুভ ক্রিয়ার সাথে নামের তুলনা করা,
09) শ্রদ্ধাবিহীন, বিমুখ এবং শ্রবণে রুচিরহিত
ব্যাক্তিকে হরিনামের উপদেশ এবং
10) নামমাহাত্ম শ্রবণ করেও নামে অরুচি।
এ তো গেলো নামাপরাধ।

সেবা অপরাধ

 এবার দেখা যাক সেবা
অপরাধ গুলো কি কি। বত্রিশটি সেবা অপরাধ আছে। যা হলো,
***
01) যানে আরোহন এবং চরণে পাদুকা দিয়ে ভগবদ্ গৃহে গমন,
02) ভগবদ্ যাত্রা উৎসবাদির অসেবন,
03) শ্রীকৃষ্ণের অগ্রে প্রণাম না করা,
04) উচ্ছিষ্ট যুক্ত দেহে এবং অশৌচে ভগবৎ
প্রণামাদি,
05) এক হস্ত দ্বারা প্রণাম,
06) তদগ্রে অন্য দেবতা অর্থাৎ সূর্য্যাদির
প্রদক্ষিণ,
07) তদগ্রে পাদদেশে প্রসারণ,
08) তদগ্রে পর্য্যঙ্ক-বন্ধন, অর্থাৎ বাহুযুগল দ্বারা জানুদ্বয় বেষ্টন করতঃ উপবেশন,
09) তদগ্রে শয়ন,
10) তদগ্রে ভোজন,
11) মিথ্যা ভাষণ,
12) উচ্চ ভাষণ,
13) পরস্পর কথোপকথন,
14) রোদন,
15) কলহ,
16) নিগ্রহ,
17) অনুগ্রহ,
18) সাধারণ মনুষ্যের প্রতি নিষ্ঠুর বাক্য প্রয়োগ,
19) ভগবৎ সেবা কার্য্য সময়ে কম্বল ধারণ,
20) তদগ্রে পরনিন্দা,
21) পরের প্রশংসা,
22) অশ্লীল ভাষণ,
23) অধোবায়ু-পরিত্যাগ,
24) সামর্থ্য থাকতে গৌণোপচার (অর্থ ব্যয়
করতে সামর্থ্য থাকলেও বিত্তশাঠ্য করে)
ভগবদুৎসবাদি নির্ব্বাহ করা,
25) অনিবেদিত ভক্ষণ,
26) যে কালে যে যে ফলাদি ও শস্যাদি উৎপন্ন হয়, সেই সেই দ্রব্যাদি ভগবানকে অর্পণ না করা,
27) আনীত দ্রব্যের অগ্রভাগ অন্যকে প্রদান
করতঃ অবশিষ্ট অংশ ভগবদর্থে প্রদান করা,
28) শ্রীমূর্ত্তিকে পশ্চাৎ করে উপবেশন,
29) অন্যকে প্রণাম করা,
30) গুরুর সমীপে কোনো স্তবাদি না করে মৌনভাবে
অবস্থিতি,
31) নিজের প্রসংশা করা এবং
32) দেবতায় নিন্দা করা।
***

সেবাপরাধ

এ সব অপরাধ সমুহ শ্রী শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত
হতে সংগৃহীত। এ ছাড়া আরো চল্লিশটি সেবাপরাধ আছে বরাহ পুরাণে। সেগুলি হলোঃ
***
01) রাজান্নভক্ষন,
02) অন্ধকার গৃহে শ্রীমূর্ত্তি-স্পর্শ,
03) বিধিব্যতিত উপাসনা,
04) বিনা বাদ্যে শ্রীমন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন,
05) কুক্কুর দৃষ্ট ভক্ষ্যের সংগ্রহ,
06) পূজাকালে মৌনতা ভঙ্গ,
07) পূজা করতে করতে মল ত্যাগার্থ গমন,
08) গন্ধ-মাল্যাদি না দিয়ে অগ্রে ধূপ প্রদান,
09) অবিহিত পুষ্প দ্বারা পূজা,
10) দন্তধাবন না করে পূজা,
11) স্ত্রীসম্ভোগ করতঃ পূজা ও শ্রীমন্দিরে প্রবেশ,
12) রজস্বলা স্ত্রীকে স্পর্শ করতঃ ভগবদ্ কর্ম,
13) দীপ স্পর্শ করে পূজা,
14) শব স্পর্শ করে পূজা,
15) রক্ত-বর্ণ, নীলবর্ণ, অধৌত, পরকীয় এবং
অপবিত্র বস্ত্র পরিধান করে পূজা,
16) মৃত দর্শন করে পূজা,
17) ক্রোধান্বিত হয়ে পূজা,
18) শ্মশান থেকে এসে পূজা,
19) কুসুম্ভ এবং পিন্যাক ভক্ষণ করে পূজা,
20) তৈলাভ্যক্ত শরীর হয়ে পূজা,
21) অজীর্ণ অবস্থায় হরির স্পর্শ এবং কর্ম্ম করা,
22) ভগবচ্ছাস্ত্রের অনাদর করে, অন্য শাস্ত্র প্রবর্তন,
23) ভগবদগ্রে তাম্বুল চর্ব্বন,
24) এরন্ডুপত্রস্থ কুসুম দ্বারা ভগবদর্চ্চন,
25) আসুরকালে ভগবৎ পূজা,
26) পীঠে এবং ভুমিতে উপবিষ্ট হয়ে ভগবৎ পূজা,
27) স্নানকালে বামহস্থ দ্বারা শ্রীমূর্তি স্পর্শ,
28) পর্য্যুষিত এবং যাচিত পুষ্প দ্বারা ভগবদর্চ্চন,
29) পূজাকালে থুৎকার নিক্ষেপ,
30) পূজাবিষয়ে গর্ব করা, অর্থাৎ আমার ন্যায় কেউ পূজা করতে পারে না ইত্যাদি মনন করা,
31) তির্য্যক্ পুন্ড্র ধারণ,
32) অপ্রক্ষালিত চরণে শ্রীমন্দিরে প্রবেশ,
33) অবৈষ্ণব পক্কান্ন ভগবানকে অর্পণ করা,
34) অবৈষ্ণব সম্মুখে বিষ্ণু পূজা,
35) গনেশের পূজা না করে ভগবান পূজা,
36) কাপালী অর্থাৎ স্বনামখ্যাত নীচজাতী
বিশেষকে দর্শন করে বিষ্ণুপূজা করা,
37) নখস্পৃষ্ট জল দ্বারা শ্রীমূর্ত্তির স্নাপন,
38) ঘর্ম্ম-লিপ্তাঙ্গ হয়ে শ্রীমূর্ত্তির পূজা করা,
39) নির্ম্মাল্য লঙ্ঘন এবং
40) ভগবানের নামে শপথাদি করা।
***
এই হলো বরাহ পুরাণের মতে চল্লিশটি সেবাপরাধ। আশাকরি, আমরা যারা না জেনে এগুলির কোনোটা না কোনোটা করে থাকি, তারা সাবধান হওয়ার চেষ্টা করবো।
পরমকরুনাময় সচ্চিদানন্দ ভগবান নিশ্চয়ই আমাদের মঙ্গল করবেন। পরমেশ্বর ভগবান সবার মঙ্গল করুণ।(দেবেন্দ্র)
!!হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে!!
!!জয় শ্রীভগবান!! জয় রাধে!!
!!জয় শ্রীমন্ মহাপ্রভুর জয়!

মানব জীবনের কল্যানের উদ্দেশ্যে ভীষ্মদেবের উপদেশ :

মানব জীবনের কল্যানের উদ্দেশ্যে
ভীষ্মদেবের উপদেশ সমূহ:
১। ক্রোধ না করা।
২। মিথ্যা কথা না বলা।
৩। সম্পদ সমভাবে বন্টন করা।
৪। ক্ষমা করা।
৫। কেবল বিবাহিত পত্নীর দ্বারাই সন্তান উৎপাদন করা।
৬। দেহে ও মনে শুদ্ধ হওয়া।
৭। কারো প্রতি শত্রুভাবাপন্ন না হওয়া।
৮। সরল হওয়া।
৯। আশ্রিত অথবা অধীনস্তদের পালন করা।
১০। ক্রোধ থেকে মুক্ত হবার জন্য ক্ষমা করতে শিখতে হবে।
১২। অবৈধ বাসনা সমূহ থেকে মুক্ত হবার জন্য ভবিষৎ পরিকল্পনা করার প্রবণতা ত্যাগ করতে হবে।
১৩। আধ্যাত্মিক অনুশীলনের দ্বারা ঘুমকে জয় করা যায়।
১৪। সহনশীলতার দ্বারা কেউ বাসনাসমূহ এবং বিদ্বেষকে জয় করা যায়।
১৫। নিয়ন্ত্রিত আহারের দ্বারা কেউ বিভিন্ন রোগের উপদ্রব পরিহার করতে পারবে।
১৬। আত্ম-সংযমের দ্বারা মিথ্যা আশা থেকে মুক্ত হওয়া যায়।
১৭। অপ্রত্যাশিত সঙ্গ পরিহার করে অর্থ বাচানো যায়।
১৮। যোগ অনুশীলনের দ্বারা ক্ষুদা ও তৃষ্ণা জয় করা যায়।
১৯। জগতের অনিত্যতার সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণেরফলে বিষয়-তৃষ্ণা নিবারন করা যায়।
২০। ভোরে শয্যা ত্যাগ করার দ্বারা বিহ্বলতা জয় করা যায়।
২১। তথ্য নির্ধারনের মাধ্যমে মিথ্যা তর্ক জয় করা যায়।
২২। গাম্ভীর্য এবং মৌনতার দ্বারা বাচালতা পরিহার করা যায়।
৩৩। শৌর্যের দ্বারা ভয় পরিহার করা যায়।
২৪। আত্ম অনুশীলনের ফলে যথার্থ জ্ঞান অর্জন করা যায়।
হরে কৃষ্ণ। জয় সনাতন।সকল বৈষ্ণবের চরনে শতকোটি প্রনাম।লেখার মাধ্যমে ভুলহলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন!!

অর্চিদেবীর বৈকূণ্ঠলোকে গমন


💚শ্রীমদ্ভাগবতে উল্লেখ আছে পৃথু মহারাজের পত্নী অর্চি দেবী যখন তার স্বামীর চিতায় সহমরণ করলেন, তখন মর্ত্যলোকবাসী ও দেবপত্নীরা দেখলেন — কিভাবে সতী অৰ্চি তার অচিন্ত্য পুণ্যকর্মের প্রভাবে ,তাঁর পতির অনুগমন করে উধৰ্ব্বগামিনী হচ্ছেন ।
💚অর্থাৎ যে বিমান পৃথু মহারাজকে নিয়ে যাচ্ছিল এবং যে বিমান মহারাণী অৰ্চিকে নিয়ে যাচ্ছিল , সেই দুটি বিমােনই স্বৰ্গলোকের দেবীদের দৃষ্টিপথ অতিক্ৰম করেছিল । পৃথু মহারাজ ও তার পত্নী যে এত উচ্চপদ প্ৰাপ্ত হয়েছিলেন , তা দেখে তারা বিস্ময়ান্বিত হয়েছিলেন । যদিও তাঁরা ছিলেন স্বৰ্গলোকবাসী দেবতাদের পত্নী এবং পৃথু মহারাজ ছিলেন নিকৃষ্টতর পৃথিবীর অধিবাসী , তবুও পৃথু মহারাজ তার পত্নীসহ দেবলোক অতিক্ৰম করে বৈকুণ্ঠলোকে গমন করেছিলেন ।
💚তারপর দেবপত্নীরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলেন যারা ছিলেন চন্দ্ৰ সূৰ্য , শুক্ৰ আদি ব্ৰহ্মলোক পৰ্যন্ত সমস্ত উচ্চতর লোকের অধিবাসী । ব্ৰহ্মলোকের উর্ধ্বে হচ্ছে চিদাকােশ , সেই চিদাকাশে অসংখ্য বৈকুণ্ঠলোক রয়েছে । তাই বৈকুণ্ঠলোক হচ্ছে জড় জগতের সমস্ত লোকের উর্ধ্বে এবং পৃথু মহারাজ ও তাঁর পত্নী সেই বৈকুণ্ঠলোকে গমন করছিলেন ।
💚পৃথু মহারাজ ও তাঁর পত্নী অচি যখন জড় আগুনের দ্বারা তাদের জড় দেহ ত্যাগ করেছিলেন , তৎক্ষণাৎ তারা তাদের চিন্ময় শরীর লাভ করে চিন্ময় বিমানে আরোহণ করেছিলেন , যা জড় উপাদানগুলি অতিক্ৰম করে চিদাকাশে পৌছতে পারে । যেহেতু তারা দুটি আলাদা বিমানে বাহিত হয়েছিলেন যেন তারা স্বতন্ত্ৰ ব্যক্তিরুপে চিদাকাশে পৌছাতে পারে । যেহেতু তারা দুটি আলাদা বিমানে বাহিত হয়েছিলেন তা থেকে বোঝা যায় যে , চিতাগ্নিতে দগ্ধ হওয়ার পরও তারা স্বতন্ত্ৰ ব্যক্তিরুপে পৃথক ছিলেন । অৰ্থাৎ , তারা তাদের পরিচিতি হারাননি অথবা শূন্য হয়ে যাননি যা নির্বিশেষবাদীরা কল্পনা করে ।
💚স্বৰ্গলোকের দেবীরা নিন্ম ও উৰ্ব্ব দুই দিকই দৰ্শন করতে পারেন । তারা যখন নীচের দিকে দেখেছিলেন , তখন তারা দেখেছিলেন যে , পৃথু মহারাজের দেহ দগ্ধ হচ্ছে এবং তাঁর পত্নী অৰ্চি সেই আগুনে প্ৰবেশ করছেন , এবং যখন তারা উপরের দিকে দৰ্শন করেছিলেন , তখন তারা দেখেছিলেন যে , কিভাবে দুটি বিমানে তারা বৈকুণ্ঠলোকে যাচ্ছেন । তা সম্ভব হয়েছিল কেবল তাদের ভগবানের ভক্তের প্রতি অচিন্ত কর্মের প্রভাবে । পৃথু মহারাজ ছিলেন একজন শুদ্ধ ভক্ত , এবং তার পত্নী অৰ্চি কেবল তাঁর পতির অনুগমন করেছিলেন । এইভাবে তারা দুজনেই ছিলেন শুদ্ধ ভক্ত এবং তার ফলে তারা অচিন্ত্য কৰ্মসাধনে সক্ষম ছিলেন ।
💚এই প্রকার বৈরাগ্য বা ত্যাগ সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় । প্রকৃতপক্ষে , সাধারণ মানুষ ভগবদ্ভক্তি গ্ৰহণ পৰ্যন্ত করতে পারে না এবং সাধারণ স্ত্ৰী সতীত্বের এই প্ৰকার ব্ৰত অবলম্বন করে সর্বতোভাবে তাদের পতির অনুগমন করতে পারে না ।
💚মহিলাদের উচ্চ শিক্ষালাভের কোন প্রয়োজন হয় না কিন্তু তাদের পতিরা যদি ভগবদ্ভক্তক্ত হন এবং তারা যদি তাদের পতির পদাঙ্ক অনুসরণ করেন , তা হলে পতি ও পত্নী উভয়েই মুক্তিলাভ করবেন এবং বৈকুণ্ঠলোকে উন্নীত হবেন । তেমনই পৃথু মহারাজ ও তাঁর পত্নীর অচিন্ত্য কর্মের প্রভাবের ফল কি তা প্ৰত্যক্ষ করেছেন সবাই।। হরেকৃষ্ণ ।।
💚💚💚💚💚💚
💚💚 সবাইকে share করুন💚💚

অর্থই অনর্থ। কেন???



Image may contain: 1 person
উত্তরঃ অর্থের স্বার্থকতা হচ্ছে অর্থকে ভগবৎসেবায় নিয়োগ করে ভগবানের কৃপা হিসাবে তার ব্যবহার করা। কিন্তু বর্তমান জগতে অর্থের অসদ্ব্যব্যবহারই নিছক নশ্বর তুচ্ছ ইন্দ্রিয়-সুখ ভোগের নিমিত্ত অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করে। ধর্মসম্পন্ন ব্যক্তি পিতা, ভ্রাতা, স্ত্রী, পুত্র, বান্ধব সবার কাছে প্রিয় হয়। কিন্তু টাকা পয়সা শূন্য হয়ে থাকলে সকল প্রীতির আত্মীয়তা বিনষ্ট হয়। ইন্দ্রিয় তর্পণের জন্য অর্থ রোজগার করলে মানুষের যে দশা হয়, তা শ্রীমদ্ভাগবতে উল্লেখ্য আছে- "চুরি, হিংসা, মিথ্যাবাক্য, দম্ভ, কাম, ক্রোধ, বিস্ময়, মত্ততা, বিভেদ, শক্রতা, অবিশ্বাস, স্ত্রীবিষয়ক বিলাসব্যসন, তাস পাশা খেলার সামগ্রী ও মাদক দ্রব্য সংগ্রহ এই পনেরো প্রকারের অনর্থ উপস্থিত হয়।" (ভাঃ ১২/২৩/১৮-১৯) আবার অনেক মূর্খ ব্যক্তি বহু কষ্টে অর্থ সঞ্চিত রেখেও ভোগ করতে পারে না।।শাস্ত্রে বলা হয়েছে, পিতা, ভ্রাতা, স্ত্রী, পুত্র প্রভৃতি অতি প্রিয় ব্যক্তিরা অর্থশূন্য ব্যক্তিকে অবজ্ঞা ও হেয় করে থাকে। শ্রীমদদ্ভাগবতে (১১/২৩/২১) উল্লেখ্য আছে-
অর্থেনাল্পীয়স্য হ্যেতে সংরব্ধা দীপ্তমন্যবঃ।
ত্যজন্ত্যাশু স্পৃধো ঘ্নতি সহসোৎসৃজ্য সৌহৃদম্।।
অর্থাৎঃ "তারা সামান্য অর্থের জন্য ক্ষুভিত ও ক্রুদ্ধ হয়ে শীঘ্রই তাদের সমন্ধ ছিন্ন করে এবং স্পর্ধাযুক্ত চিত্তে বন্ধুত্ব-আত্মীয়তা পরিত্যাগ করে ভাইয়ে ভাইয়ে বিনাশমূলক কাজে এগিয়ে আসে।"
এটাই ভগবৎ-সেবাবিমূখ ইন্দ্রিয় তর্পনকারীদের অর্থের অনর্থকতা।
#জয়_শ্রীকৃষ্ণ

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বিষয়বস্তু

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বিষয়বস্তু হল ঈশ্বর, জীব, প্রকৃতি, কর্ম ও কাল। এই কাল হল সময় যা প্রতিটি জীবনের শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ।
যে সময়কে সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করতে পেরেছে, সময়ই তাকে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।
💟চব্বিশ ঘন্টার একটা দিন সবার জন্যই। শুধু সে সময়টাকে কে কিভাবে ব্যবহার করছে তার উপরই নির্ভর করবে ইতিহাসের কোন জায়গায় আপনি থাকবেন।
💟আপনাকে ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা
করতে হবে না, বরং ভবিষ্যৎই আপনার
জন্য অপেক্ষা করবে।
💟পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন,"অহমেবাক্ষয় কালঃ" ।
অর্থাৎ "হে অর্জুন আমিই সবার আয়ু ক্ষয়কারী মহাকাল"।
💟তাই পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরন গ্রহন করে এখনই সময় সময়কে কাজে লাগানোর।
💟জাগতিক প্রবাদ আছে,
"সময়ের এক ফোঁড়,
অসময়ের দশ ফোঁড়"।
💟লালন গেয়েছেন,
"সময় গেলে সাধন হবে না"।।হরে কৃষ্ণ।।